34 C
Dhaka
শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

নবাবগঞ্জের ভাঙ্গাভিটার বাঙ্গি স্বাদে-রসে অতুলনীয়

spot_img

আরো সংবাদ

spot_img
spot_img

সুজন খান :
“বাঙ্গি” এই নাম শুনলেই বাঙ্গির মৌ-মৌ সুঘ্রাণ নিতে ও বাঙ্গি খেতে আগ্রাহ প্রকাশ করেন না এমন লোক খোঁজে পাওয়া দুঃস্কর। গ্রীষ্মকালের গরমে ক্লান্তি ও শরীরে পানির অভাব পূরণ করতে রসালো বাঙ্গি অনেক কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আর এই রামাদান মাসে রোজাদার ব্যক্তির কাছে ইফতারের সময় বাঙ্গি ছাড়া যেন চলেই না। এমনই এক সুস্বাদু ও রসালো বাঙ্গির গ্রাম ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙ্গাভিটার “বাঙ্গি”। যা স্বাদে-রসে অতুলনীয়। বর্তমানে এই বাঙ্গি গ্রাম ছাপিয়ে সুনাম ছড়াচ্ছে সারাদেশে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, অনেক ভোর থেকেই কৃষকেরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বাঙ্গি তুলতে। কারণ সকাল সকাল জমি থেকে বাঙ্গি তুলে হাটে নিতে না পারলে ভাল দাম পাওয়া যাবে না এবং পাশাপাশি বাঙ্গি বিক্রির জন্য অপেক্ষা করতে হবে সারা দিন। তাই সকালে বাঙ্গাভিটা এরাকার ভাসমান নৌকার হাট ধরতে কৃষকদের চলে তোড়জোড়।

জানা গেছে, বাঙ্গি এই ফলকে কেন্দ্র করে এ মৌসুমে ভাঙ্গাভিটা এলাকায় ইছামতী নদীর পাড়ে প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুই বেলা বাঙ্গির হাট বসে। গ্রামের প্রায় ২১৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ হয় বলে জানান কৃষকেরা। প্রায় দুই শতাধীক পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এ বাঙ্গি চাষের উপর। এই অঞ্চলে বাঙ্গি চাষ শুরু হয় ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত এবং বাকি সময় চলে অন্যান্য ফসলের আবাদ।

আরও দেখা যায়, এ এলাকায় সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও উন্নত না হওয়ায় ইছামতী নদীর পাড়ি দিয়ে যেতে হয় গ্রামটিতে। ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের পাশে মরিচা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা নৌকা নিয়ে অতি অল্প সময়ে যাওয়া যায় ভাঙ্গাভিটা এলাকার বাঙ্গির হাটে।

বাঙ্গি চাষী নিত্যরঞ্জন জানান, আমাদের এই অঞ্চলে এই মৌসুমে প্রায় সকল চাষীরাই এই রসালো বাঙ্গি চাষ করে থাকে। যা আমাদের সারা বছরের জীবিকা নির্বাহের একটি অন্যতম মাধ্যম। তাই আমাদের এই এলাকাকে বাঙ্গির গ্রাম নামে বেশ পরিচিত হয়েছে সারা দেশে। আমাদের এই রসালো ও সস্বাদু বাঙ্গি আমাদের এলাকা ছাপিয়ে সারা দেশের পাইকার এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছে এখান থেকে। বর্তমানে আমাদের এই রসালো ও সুস্বাদু বাঙ্গি সুনাম রয়েছে সারা দেশে।

তিনি আরও জানান, আমাদের এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় আমরা আমাদের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। বর্তমানে এক ঝাঁকা বাঙ্গি (৩০টি) পাইকারদের কাছে নিয়ে আমরা বিক্রি করি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। কিন্তু এগুলো বাজারে গিয়ে প্রতিটি বিক্রি হতো ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। কিন্তু আমাদের রাস্তাঘাট যদি ভালো হতো তাহলে আমরা রাজধানীতে নিয়ে বিক্রি করতে পারতাম এবং আমরা আমাদের কষ্টের ফসলে ন্যায্য মূল্যও পেতাম।

ঢাকার রাজধানী থেকে বাঙ্গি কিনতে আসা পাইকার মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই অঞ্চলের বাঙ্গির সুনাম অনেক তাই এ অঞ্চল থেকে প্রতি বছরই বাঙ্গি কিনে নিয়ে বিক্রি করা হয়। তবে এ অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই খারাপ। কোনো গাড়ি সেখানে যেতে পারে না। বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে অনেক কষ্ট করে এই বাঙ্গি আমাদের বহন করতে হয়। আর এ জন্যই আমাদের খরচ পড়ে অনেক টাকা। তাবে যাতায়ত ব্যবস্থা যদি ভাল হতো তাহলে বাঙ্গি চাষী ও আমরা যারা পাইকার আছি আমাদের সকলেরই অনেক ভাল হতো।

এ বিষয় নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসমা বেগম জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ বছর বাঙ্গির ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বছরই এই ভাঙ্গাভিটা এলাকায় বাঙ্গির ফলন বেশ ভালো হয়। ওই এলাকার প্রায় ২১৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গির চাষ হয়। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় কৃষকেরা মূল্যটা ভালো পাচ্ছেন না।

spot_img
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

spot_img
spot_img

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
ক্যাপচা ব্যবহারকারীর স্কোর ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন!
error: Content is protected !!