32.3 C
Dhaka
সোমবার, মে ১৮, ২০২৬

কালভার্ট বন্ধ করায় কৃত্রিম বন্যা: পানিবন্দি ৫ গ্রামের মানুষ

spot_img

আরো সংবাদ

spot_img
spot_img

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বেগুনাটি সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন প্রধান সড়কটি এখন যেন এক খরস্রোতা নদী| মাত্র একটি সরকারি কালভার্ট মাটি ফেলে বন্ধ করে দেওয়ার খামখেয়ালিপনায় ˆতরি হয়েছে এই কৃত্রিম বন্যা| এতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, মাছের প্রজেক্ট ও ফলদ বাগান| পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বেশ কিছু পরিবার| প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না কোনো প্রতিকার, ফলে ক্ষোভে ও আহাজারিতে ফেটে পড়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী|

আরও সংবাদ পড়ুন : কাপাসিয়ায় ৫ খুন: পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে ঘাতক ফোরকানের আত্মহত্যা!

রবিবার (১৭ মে) সকালে সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক চরম দুর্দশার চিত্র| রানীগঞ্জ বাজার, তারাগঞ্জ বাজার, লাখপুর, শিবপুর, নরসিংদী, কাপাসিয়া সদর এবং গাজীপুর সদর হাসপাতালে যাতায়াতের একমাত্র প্রধান সড়কটির ওপর দিয়ে এখন প্রায় দুই থেকে তিন হাত উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে| বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এই কর্দমাক্ত হাঁটু পানি মাড়িয়েই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় ৫টি গ্রামের অন্তত ৫ হাজার মানুষ ও মাদ্রাসা-স্কুলের শিক্ষার্থীরা| সবচেয়ে সংকটে পড়েছে এলাকার খেটে খাওয়া দিনমজুর পরিবারগুলো| আকস্মিক জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার| যাদের পাকা ঘর নেই, মাটির দেওয়ালের ঘরই একমাত্র স¤^ল, তাদের ঘরগুলো এখন চরম ঝুঁকিতে| মাটির দেওয়ালগুলো পানিতে ভিজে নরম হয়ে গেছে; যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে|

আরও সংবাদ পড়ুন : কেরানীগঞ্জে ৩০ লাখ টাকার গাঁজাসহ মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

চলতি ˆবশাখ মাসে এই এলাকাটি আম, লিচু ও কাঁঠালের বাম্পার ফলনের জন্য পরিচিত| কিন্তু আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে মাঠের পাকা ধান, বিভিন্ন লিচু, আম ও কলাবাগান| সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মৎস্য চাষিরা| মাঠের পর মাঠ মাছের প্রজেক্ট ও পুকুর পানিতে ডুবে ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কৃষকের ¯^প্নের পোষা মাছ সব ভেসে গেছে| ক্ষয়ক্ষতির এই বিশালত্বে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা|

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঠে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সরকারি কালভার্ট ছিল| কিন্তু এলাকার মিয়ারউদ্দিন পাঠানের ছেলে তাইজুল ইসলাম পাঠান নামক এক ব্যক্তি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কালভার্টটিতে মাটি ফেলে পানি চলাচলের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন| এর ফলেই এই কৃত্রিম বন্যা ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে|

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীমকে কয়েক দফা ফোন করেও পাওয়া যায়নি|

উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন ঘটনাস্থলে আমি গিয়েছিলাম আমি ইউএনও স্যারকে বিষয়টি অবহিত করেছি|

ভুক্তভোগী স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক নুরুল হক, কৃষক কাজল মিয়া, মামুন মিয়া, জহিরুল হক, লাল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ মিয়া, সিরাজ মিয়া, লেহাজ উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেনসহ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, এই চরম সংকট থেকে মুক্তি পেতে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত দরখাস্ত ও আবেদন জানিয়েছেন| কিন্তু রহস্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ বা সুফল পাওয়া যায়নি| দ্রুত এই কালভার্টটি সচল করে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী|

spot_img
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

spot_img
spot_img

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
ক্যাপচা ব্যবহারকারীর স্কোর ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন!
error: Content is protected !!