কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার রোমহর্ষক সমাপ্তি ঘটল| পাঁচ খুনের মূল হোতা ফোরকান মিয়া পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ| হত্যাকাণ্ডের ছয় দিন পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এল|
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ৮ মে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক ছিলেন ফোরকান| প্রযুক্তির সহায়তায় ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘাতক ফোরকান পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থান থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন|
আরও সংবাদ পড়ুন : রাণীশংকৈলে ভুট্টাক্ষেতে মিলল ৪ বছরের শিশুর মরদেহ, আটক-১
পুলিশ জানায়, পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে ফোরকানের আত্মহত্যার দৃশ্য| সেখানে দেখা যায়, ফোরকান মিয়া সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত ছিলেন| সেতুর মাঝামাঝি স্থানে গিয়ে নিজের মোবাইল ফোনটি রেলিংয়ের ওপর রাখেন| এরপর মুহূর্তের মধ্যেই তিনি উত্তাল পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন| হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যায়ই ফোরকান পদ্মা সেতুতে যান| তার মোবাইল ফোনটি মেহেরপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে| বর্তমানে ডুবুরি দল নদীতে মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে| গত ৮ মে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া ফোরকান মিয়া তার স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), তিন মেয়ে মীম (১৫) মারিয়া (৮) ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২) কে গলা কেটে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন| ঘটনার পর তিনি কাপাসিয়া থেকে ৯ হাজার টাকায় একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে পালিয়ে যান এবং মগবাজার এলাকায় গিয়ে গা-ঢাকা দেন|
আরও সংবাদ পড়ুন : দোহারে ‘ভোরের ডাক’ পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
এই ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন| যদিও ঘাতক ফোরকানের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে গত কয়েকদিন ধরে তল্লাশি চালিয়েও এখনো তার মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল| এ নিয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে|



