রুপালী বাংলা নিউজ ডেস্ক :
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ব্রহ্মপুর বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাটে বারনই নদীতে একটি সেতুর অভাবে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, কৃষকসহ অত্র এলাকার হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘ ৫৩ বছরে সেতু না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। বর্ষাকালে ডিঙ্গি নৌকাই যেন এখানকার মানুষের শেষ ভরসা। সেতু না থাকায় পারাপারের সময় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হন। এই অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে জনসাধারণের পারাপার ও ব্যবহার উপযোগী একটি সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বজলু মাস্টার, জালাল মাঝি, সেলিম রেজা, রাব্বি হোসেনসহ অনেকে জানান, নলডাঙ্গা উপজেলার ব্রহ্মপুর বাজার খেয়াঘাট এলাকায় নৌকা দিয়ে বাঁশিলা খেয়াঘাট, আঁচড়াখালিসহ কয়েক গ্রামের শিক্ষার্থী, কৃষক, সাধারণ মানুষ পারাপার হন। ৭১ এর স্বাধীনতার পর ৫৩ বছরেও গুরুত্বপূর্ণ এ খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় সেতু নির্মাণের নানা আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এর আগেও এখানে নৌকায় নদী পারাপারের সময় এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসাধারণ নদী পারাপার হন। ব্রহ্মপুর খেয়াঘাট এলাকার আশপাশে ইউনিয়ন পরিষদ, প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজার, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেতু না থাকায় এখানার উৎপাদিত কৃষি পন্য সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারেন না কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সেতু নির্মিত হলে পাল্টে যাবে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য। প্রসার হবে ব্যবসা-বাণিজ্যের।
ব্রহ্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান জানান, প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকাবাসী নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে থাকেন। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে এখানে একটি সকলের ব্যবহার উপযোগী একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নলডাঙ্গা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী অরুপ কুমার জানান, বারনই নদীর উপর বেশ কিছু স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এবিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।