সিনিয়র প্রতিবেদক :
রাত গভীর হলেই সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নেমে আসত এক অদৃশ্য আতঙ্ক। দিনের ব্যস্ততা থেমে গেলেও অন্ধকারের আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পথচারীসহ শ্রমজীবী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা থাকতেন চরম অনিশ্চয়তায়। ছিনতাই, মাদক লেনদেন ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা এলাকাজুড়ে তৈরি করেছিল নীরব ত্রাসের রাজত্ব। অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।
এমনই পরিস্থিতিতে (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক পনে ১টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাভার আর্মি ক্যাম্পের একটি নিয়মিত টহল দল সাভার বাসস্ট্যান্ড সড়ক এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে কিছু মানুষের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে যেখানে একদল ছিনতাইকারী কয়েকজন পথচারীকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করছিল। এমন দৃশ্য চোখে পড়তেই সেনাসদস্যরা দ্রুত ও কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন।
মুহূর্তেই শুরু হয় ধাওয়া। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয় দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। কিন্তু অভিযান সেখানেই থেমে থাকেনি। আশপাশ এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পরিচালিত অভিযানে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও সংবাদ পড়ুন : সাভারে সেনাবাহিনীর অভিযানে মাদকসহ ৩জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), রিপন মিয়া (৪০), মোঃ শাহিন ইসলাম (১৮), মোঃ রাসেল (১৮) নামের ৪জন সন্ত্রাস। তারা সকলে সাভারের বাস স্ট্যান্ড এলাকার আশে পাশেই অবস্থান করতেন।
এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, মদ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির অর্থ এবং মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে, চক্রটি যে কোনো সময় বড় ধরনের সহিংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়তে পারত। সময়োচিত এই অভিযানের ফলে সম্ভাব্য গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও সংবাদ পড়ুন : দোহারে প্যারাডাইম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এর আনুষ্ঠানিক যাত্র শুরু
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এ চক্রটি সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল। সেনাবাহিনীর দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ এ অভিযানের জন্য সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন এবং রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করতেন তারা।
অভিযান শেষে আটককৃত ব্যক্তিবর্গ ও উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাভার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



