সিনিয়র প্রতিবেদক :
ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুরে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় ৫ ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলা বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (৫ মার্চ) দুপুরে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ঢাকা জেলা দোহার সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দোহার উপজেলার কুলছড়ি এলাকার দাদন চোকদারের ছেলে রাকিব চোকদার (২৩), একই এলাকার শুকুর বেপারীর ছেলে হালিম বেপারী (৪৫), ইসমাইল বেপারীর ছেলে লিটন বেপারী (৪৫), দক্ষিণ রাধানগর এলাকার শেখ লাল মিয়ার ছেলে বাচ্ছু মিয়া (৩৪), আলম বাজার এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে নাজির মিয়া (৩৫)।
প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ৯নং বিলাসপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকায় মোঃ হানিফ শেখ এর বসত বাড়ীতে অজ্ঞাতনামা ১৪/১৫ জন সশস্ত্র ডাকাত শটগান, পিস্তল, চাকু, সাবল, রাম দা, দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিল্ডিংয়ের নীচ তলার পূর্ব পাশের রুমে কাঠের তৈরী মেইন দরজা ও রুমের দরজা সাবল দিয়ে ভেঙ্গে রুমের ভিতর প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও মারধর করে তার মায়ের কক্ষে থাকা খাটের তোষকের নিচে থেকে দুই ভরি ওজনের ৩ জোড়া কানের স্বর্ণের কানের দুল, আড়াই ভরি ওজনের ৩টি স্বর্ণের চেইন, দুই ভড়ি ওজনের ১ জোড়া স্বর্ণের রুলিসহ মোট সাড়ে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার যাহার বাজার মূল্য ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে ডাকাত দলকে ধাওয়া করলে ডাকাত দল লোকজনের দিকে শটগান দিয়ে গুলি করে ৭-৮ জনকে আহত করে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ১ জন মাঝিকে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনি দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে।
এরই প্রেক্ষিতে দোহার থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের হলে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জমান এর নির্দেশনায় ও সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম এর তত্ত্বাবধানে দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে দোহার থানার একটি চৌকস দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির সাথে জড়িত ৫ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় এবং তাদের কাছে থেকে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা করে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা প্রাথমিক ভাবে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে আজ তাদের পুলিশ প্রহরায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।