সুজন খান :
ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জে গাছে গাছে আমের মুকুলের মৌ মৌ মিষ্টি ঘ্রাণে ভরে উঠেছে প্রকৃতি। আম গাছের সোনালী রঙের মুকুলে প্রকৃতি যেন নিজের খেয়ালে সাজিয়ে রেখেছে। মুকুল গুলো দেখতে যেমন ভালো লাগছে তেমনি মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে এলাকা গুলো। বাগানে মৌমাছির দল গুনগুন শব্দ করে আমের মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখা গেছে দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও বাসা বাড়ীতে রোপন করা আম গাছগুলোতে দেখা যাচ্ছে এ সোনালী মুকুল।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দোহার ও নবাবগঞ্জের প্রতিটি বাড়িতে অন্যান্য গাছের সাথে বিচ্ছিন্ন ভাবে রোপন করা আম গাছ রয়েছে বেশ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অধিক পরিমানে মুকুল দেখা দিয়েছে। যার ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর অধিক ফলন হবে। যা নিজেদের চাহিদা পূরণ করেও বাজারে বিক্রি করে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে বলে সকলেই ধারণা করছেন।
দোহার উপজেলার কাঠালীঘাটা এলাকার আব্দুল খালেক জানান, আমাদের অন্যান্য গাছের সাথে প্রায় ৩০টির মতো আম গাছ রয়েছে। এ বছর আমের মুকুল অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। অধিক পরিমানে ঝড়-বৃষ্টি না হলে এবার অনেক আম হবে বলে আশা করছি।
রাইপাড়া ইউনিয়নের রাইপাড়া এলাকার আব্দুল হালিম শিকদার বলেন, বাড়ির আম গাছগুলোতে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। চারিদিকে ছড়াচ্ছে মুকুলের সুবাসিত মৌমৌ গন্ধ। প্রতি বছরই গাছগুলোতে আম ধরছে। তবে এ বছর মুকুল অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।
দোহার উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দোহারের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন আমের জাতের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় জাতের আমসহ আম্রপালি, বারি-৪, বারি-৮, বারি-১১ জাত।
দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকতার ফারুক ফোয়াদ জানায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অধিক পরিমাণে গাছে গাছে আমের মুকুল দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমচাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এই বছর আমের ভালো ফলন পাওয়া যাবে।